Epistaxis
Epistaxis
#শীতে বাচ্চার নাক দিয়ে রক্তপড়া#
নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে ডাক্তারি পরিভাষায় এপিসটেক্সিস বলে।
বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্তপড়া খুবই কমন একটা বিষয়। বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্তপড়া সাধারণত খুব বেশী তীব্র হয় না। এই কারণে সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। কদাচিৎ হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
#বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পেছনে ২ টি কারণ বিশেষভাবে জড়িত-
১| স্বাভাবিকভাবে নাকের মধ্যে ব্লাডসাপ্লাই বেশী থাকে।
২| ঘন ঘন ঠান্ডা,সর্দি,কফ কাশি লেগে থাকে (URTI)।
বেশীরভাগ রক্তপড়া নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায় এবং বাসাতেই ম্যানেজ করা যায় বা প্রাথমিক চিকিৎসাতেই ভাল হয়ে যায়।
বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে শিশু ও তার বাবা মা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন। বাচ্চার ঘুম, স্কুল ও খেলাধুলায় প্রভাব পড়তে পারে।
#বয়সের প্রভাব:
সাধারনত ১০ বছরের নিচের শিশুদের এপিসটেক্সিস বেশী হয়। মেয়ে শিশুর তুলনায় ছেলে শিশুর এই সমস্যা বেশি হয়। ৩ - ৮ বৎসরের শিশুদের এই রোগের প্রকোপ সবচাইতে বেশী।
সাধারণত দুই বছরের নিচে বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায় না।বয়সন্ধিকালের পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে।
এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ১০ বছর বয়সী ৬০ শতাংশ শিশুর কমপক্ষে একবার নাক দিয়ে রক্ত পড়েছে।
#ঋতুর প্রভাব: শীতকালে এই রোগের প্রকোপ বেশী দেখা যায় সম্ভবত দুই কারণে:-
১| এই সময় শ্বাসনালীর ইনফেকশন বেশী হয়। (URTI)
২| বায়ু শুষ্ক থাকে।
#নাকের কোন স্থান থেকে রক্ত পড়েঃ
বাচ্চা এবং বড় দুই গ্রুপেরই এপিসটেক্সিসের কমন জায়গা হলো নাকের পার্টিশনের অগ্রভাগ। নাকের পার্টিশনের এই অংশ পাতলা এবং শুষ্ক বাতাসের বেশী কাছে থাকে। এই জায়গাতে রক্তনালিকার একটি প্লেক্সাস থাকে যাকে কিজেলবাক্স প্লেক্সাস বা লিটিলস এরিয়া বলে এবং একটি ভেইন থাকে যাকে রেট্রোকলুমেলার ভেইন বলে।
#এপিসটেক্সিসের কারণঃ
বাচ্চাদের এপিসটেক্সিসের কারণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি যে দুইটি জিনিসকে চিন্তা করা হয় তা হল নাকের অগ্রভাগের শুষ্কতা এবং চল্টা হওয়া (Crusting)।চল্টা সরানোর পরে নিচ থেকে রক্তপাত হয়।
আগে ধারণা করা হতো এপিসটেক্সিসের বেশীরভাগ কারণ অজ্ঞাত (Idiopathic) কিন্তু বর্তমানকালে এস. অরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়ার প্রদাহ সংক্রান্ত নতুন রক্তনালীর জন্ম হওয়াকে দায়ী করা হয়।
#এপিসটেক্সিসের কিছু কমন কারণ তুলে ধরা হলঃ
১| আঙ্গুল দিয়ে নাক খোচানো।
২| এলার্জি
৩| ইনফেকশন (ব্যাকটেরিয়াল/ভাইরাল)
৪| ফরেইন বডি (বাচ্চারা নাকের ভিতর পুতি,কাগজ,ফোম ইত্যাদি ঢুকিয়ে রাখে)।
৫| নাকের পার্টিশন/হাড় বাকা
৬| নাকে আঘাত লাগা
৭| টিউমার
৮| রক্তজমাট বাধা সংক্রান্ত সমস্যা
৯| ডেঙ্গুজ্বর
১০।ইত্যাদি
#করণীয়ঃ-
ক. হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কি করণীয়?
খ. বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে কি করণীয়?
#ক. হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়লে করণীয়ঃ-
হঠাৎ করে রক্ত পড়লে নাকের অগ্রভাগ ১০-১৫ মিনিট যাবৎ আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। তাতে কাজ না হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেক্ষেত্রে নাকে প্যাক দেয়া বা কটারি করা লাগতে পারে।
#খ. বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়লে করণীয়ঃ-
কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো-
১| নাকের মিউকোসাকে
আর্দ্র রাখার জন্য ডাক্তার নরমাল স্যালাইন ড্রপ অথবা নরমাল স্যালাইন স্প্রে দিতে পারেন।
২| পেট্রোলিয়াম জেলি নাকের ভিতর ব্যবহার করা।
৩| এন্টিসেপটিক মলম ব্যবহার করা (আমাদের দেশে নিওমাইসিন অয়েন্টমেন্ট, মিউপিরোসিন অয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়( ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত)।
এতে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করবেন।
অনেক ক্ষেত্রে কেমিক্যাল কটারি বা ইলেকষ্ট্রোকটারির প্রয়োজন হতে পারে।
কখনো কখনো লিমিটেড সেপেটাপ্লাস্টি অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।
#প্রতিরোধঃ/উপদেশঃ
চিকিৎসা দেবার পর বাচ্চার বাবা মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।
বাচ্চার হাতের নখ নিয়মিত কাটতে হবে এবং পরিষ্কার করতে হবে। যদি সর্দি, এলার্জি থাকে তবে এ সংক্রান্ত উপদেশ মেনে চলতে হবে।
#Ref:Scott Brown ENT text,8th edition.
No comments